লুৎফুর রহমান :: আবছার খান মামুন। একজন বাঙালি তরুণ। কর্মগুণে লেবার থেকে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে চমকে দিয়েছেন আমিরাতকে। সেইসাথে চমকে গেছে গোটা দুবাইয়ের বাঙালি সমাজ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মাত্র ৯ম ক্লাস হলেও নিষ্ঠা ও মেধায় লেবার থেকে আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারের পদ দখল করে নিয়েছেন দুবাই মিউনিসিপালিটির জেনারেল ম্যানেজারের ব্যক্তিগত কোম্পানী লোতাহ গ্রুপ অব কোম্পানীতে। মামুনের বাড়ি ফেনীর উত্তরধলিয়াতে।
একদম গরীর ঘরের ছেলে সে। সেই শৈশবে বাবা আব্দুল আউয়াল খানকে হারিয়েছেন। বাবাকে খুন করেছে সন্ত্রাসীরা। দুই ভাই, দুই বোন নিয়ে মামুনের মা মাজেদা বেগম অনেক কষ্ট করে দিন কাটিয়েছেন। তখন তারা সবাই ছোট। একবেলা দু’মুঠো ভাত জুটলেও আরেকবার ভাত জুটেনাই তার ভাগ্যে। এমন কষ্ট করে বড়ভাই আবু ছুফিয়ান খান এইচএসসি পাস করলেও অভাব অনটনের সংসারে মামুনের ৯ম ক্লাস পরেই নেমে যেতে হয় জীবন যুদ্ধে। সেই থেকে একটা প্রতিজ্ঞা ছিল মনে একদিন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠবেন। সময় পেলেই কাগজ-কলমে যুদ্ধে লেগে যেতেন। করে ফেরতেন অসাধারণ ড্রয়িং।
তখন দেশে নির্বাচনের উত্তাল সময়। ফেনীতে আসলেন স্থানীয় এমপি মোশারফ হেনী। মামুন উনার কাছে গিয়ে তাদের দুর্দশার তথা বল্লে তিনি সময়-সময় মামুনদের আর্থিক সাহায্য করে যান। নির্বাচনের দুই বছর ওই এমপিকে আকুতি করে মামুন । বিদেশ পাঠানোর জন্য। এমপি তার বেইস্টার্ন লি. এর মাধ্যমে মামুনকে দুবাই পাঠানোর সব ব্যবস্থা করলেন। আর অর্ধেক টাকায় তাকে দুবাই পাঠালেন। শুরু হয় মামুনের স্বপ্নগড়ার সংগ্রাম।
লেবার হয়ে কাজ করলেও চোখ মামুনের ইঞ্জিনিয়ারিং এর দিকে। ৫ বছর লেবার জীবন চলতে থাকে। এরই মাঝে আমিরাতের মোবাইল কোম্পানী ‘ডু’ তার নিজস্ব ভবনের জন্য ডিজাইন আহবান করলেও মামুন এখানে একটা ড্রয়িং জমা করে। তার ড্রয়িং নির্বাচিত তালিকায় স্থান পায়। তার সেই পত্রটি লোতাহ কোম্পানীর এমডি’র কাছে দেখালে এমডি মামুনকে একই কোম্পানীতে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পদোন্নতি দেন এই বছরে। সেই সাথে বেড়ে যায় মামুনের বেতনভাতাও। নতুন পদে অল্প কয়েকদিনের মাঝেই সে ড্রয়িং ডিজাইন করে বিভিন্ন কোম্পানীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। মামুন আরো এগিয়ে যেতে চায়। চায় সকলের দোয়া। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকার পরও মেধাবলে এগিয়ে এসেছে বলে খোদার কাছে সে কৃতজ্ঞ।








