বৃক্ষপ্রেমী বশার নিরন্তর বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করে চলছেন। দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নানা ধরনের ফলদ, বনজ, ভেও শোভাবর্ধক গাছের এক বিশাল সংগ্রহ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে বৃক্ষশালা সংগ্রহের উদাহরণ টেনে কর্তৃপক্ষ বিশেষ পুরস্কার ও ২০০৪ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষমেলায় ১ম পুরস্কার ও সনদ অর্জন করে। জানা যায়, বাউফলের তেঁতুলিয়া পাড়ে ধানদী গ্রামের মোহাম্মদ আবুল বশারের (৩৬) জন্ম। ডাক নাম বশির। শিক্ষক ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি ভালোবাসেন গাছ। সরেজমিন চিত্রে দেখা গেছে, বশারের বাগানবাড়িতে গাছে গাছে ফুল-ফলে ভরে গেছে। সাজানো গোছানো তার বাগানবাড়ির দেশি-বিদেশি দুর্লভ আর বিলুপ্তপ্রায় ফুল-ফলের গাছ দর্শনার্থীদের অবাক করে। তার বাড়িতে কেউ আসেন গাছের ছাল-বাকল নিয়ে কবিরাজি সারতে। আবার কেউ অসেন দেশি-বিদেশি গাছের চারা বা কলম নিতে। তার এ বৃক্ষায়ন এলাকায় বেশ প্রভাব ফেলছে। উঠতি বয়সের অনেক যুবক এরই মধ্যে বশিরের শখে প্রভাবিত হয়েছেন। আলোচিত হয়েছেন বশার বিয়ে বা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গাছ উপহার দিয়ে। আবার কখনো পত্রপত্রিকায় শিরোনাম হয়েছেন তার গাছ সংগ্রহের জন্য। জাতীয় বা স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে তার বাড়ির নানা ধরনের ফুল ও ফলের ছবি প্রায় সময়ই ফটোফিচারে স্থান পায়। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদকের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় জানায়, বশার যখন এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই বছরই তার বাবা মারা যান। বাবাকে হারিয়ে অসহায় পরিবারের হাল ধরতে হয় তাকে। ৫ ভাই বোনের সবার ছোট বশার। বাউফল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভাই-বোন ফেলে রেখে পাড়ি জমান কাজের খোঁজে রাজধানী শহর ঢাকায়। অঙ্কে ভালো থাকায় সহজেই জুটে যায় প্রাইভেট টিউশনি। প্রাইভেটের টাকায় লেখাপড়া আর সংসারে সহযোগিতা করতে হয় তাকে। ১৯৯৩ সালে ঢাকা আইডিয়াল কলেজ থেকে বিএসসি পাস করে বশার। বাংলাদেশ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ থেকে বিএড পাসের পর তার গ্রামেই একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার চাকরি মিলে যায়। ৫০ শতাংশ জমি কিনে ঘর তুলে কোনো রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন। দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নানা ধরনের ফলদ, বনজ, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ লাগিয়ে ওই বাড়িতে এক বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলেন বশার। বশারের বাগানে বারমাসই কোনো না কোনো ফল থাকে। তার বাড়িতে এখন শোভা পাচ্ছে শ্বেতচন্দন, জাফরান, আলুবোখারা, লবঙ্গ, দারুচিনি, অশোক, নাগলিঙ্গম, জয়ফল, রাম্বুটান (মালয়েশিয়া), চেরিফল, লটকন, লংগান (কাঠলিচু), আপেল, লকট (থাইল্যান্ড), মহুয়া, আগর, জেবুটিকাবা (পাকিস্তান), ফলসা, তুরুগ চণ্ডাল, পাচরিমন (আমেরিকা), মালটা (পাকিস্তান), নাসপাতি, শরিফল, কারিপাতা, পাহাড়ি বাদাম, কাজুবাদাম, পায়েল, সজনে, কর্পূর, ডুরিয়ান (মালয়েশিয়া), ম্যাঙ্গোস্টিন (থাইল্যান্ড), নিসিন্দা, পেস্তা, উলটকম্বলসহ নানা প্রজাতির আম (মহাছনক, পালমার, সূর্যডিম, মিস এস্পেশাল, পুনাই, পুনাই লাল, ম্যাট্রাস, ম্যাট্রাস তোঁতা, আম্রপলি, চোষা, হিমসাগর) ও নানা প্রজাতির লিচু








