আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশ থেকে আরো দুইহাজার সৈন্য নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন দেশের ৯০৬২ সৈন্য রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী হচ্ছেন বাংলাদেশী। সম্প্রতি সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করলে বাংলাদেশী সৈন্যরা জীবন বাজি রেখে তা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত নির্বাচনে জয়ী প্রেসিডেন্ট আলেসান্দ্রা উত্তরার সদর দফতর গোল্ফ হোটেলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন।
একইসাথে শান্তিরক্ষা বাহিনীর অপর সদস্যগণের সাথে বাংলাদেশী সৈন্যরাও গণধিকৃত সাবেক প্রেসিডেন্ট লরেন্ট জিবেগোকে গ্রেফতারে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছেন। ঐ সময় বাংলাদেশী একজন সৈন্য গুলিবিদ্ধ এবং আরেকজন অফিসার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মহাসচিব বান কি-মুন শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশী সৈন্য বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন ইতিপূর্বে শান্তিরক্ষা মিশনে আরো বাংলাদেশী সৈন্য নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। সে অনুরোধে সাড়া দিয়েই মহাসচিব দুই হাজার সৈন্য নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন বলে ২৯ এপ্রিল স্থায়ী মিশন থেকে বার্তা সংস্থা এনাকে জানানো হয়েছে। আরো জানা গেছে, লেবানন সীমান্তে কর্মরত বাংলাদেশ ফ্রিগেট দুটির মেয়াদ আরো এক বছরের জন্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব ফ্রিগেটের জন্যে বাংলাদেশ মোটা অংকের অর্থ পাচ্ছে।
জানা গেছে, আইভরি কোস্টে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বর্তমানে ৭৫৬৮ সৈন্য, সামরিক পর্যবেক্ষক ১৭৭, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ১৩১৭ জন রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ২১৩৩ এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ৩৬০ জন। ৪ মহাদেশে ১৫টি শান্তিরক্ষা মিশনে মোট ৯৮৯৫৯ জন সদস্য কাজ করছেন। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ হচ্ছে সর্বোচ্চ সৈন্য সরবরাহকারী রাষ্ট্র। এ সংখ্যা হচ্ছে ১০৬০০। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সৈন্য সরবরাহকারী রাষ্ট্র হচ্ছে পাকিস্তান-১০৫৮০ এবং এর পরেই রয়েছে ভারত-৮৬৫৭।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন এনাকে বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যগণের নিরলস ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে, গত ১০ এপ্রিল আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ আবদুস সালাম এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব. বান কি মুন। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনকে লেখা এক শোকবার্তায় স্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও সালামের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আইভরিকোস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সালামের অবদানের প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসমূহে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এবং অব্যাহত অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব তার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।








