বাংলাদেশে ফুল শিল্পের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ঘটেছে শিল্প ও কৃষি বিপ্লব। দেশে যেমন ঘটেছে কম্পিউটার ও ওঞ-এর বিস্তার, পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে কৃষক ঝুঁকেছে ঈৎড়ঢ় উরাবৎংরভরপধঃরড়হ অর্থাৎ মাঠ ফসলের পাশাপাশি সবজি ও ফল চাষের দিকে। কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছে সবজি ও ফল চাষের অর্থনৈতিক লাভের দিকগুলো। অবশ্যই এটা ইতিবাচক। ইতোমধ্যেই সবজি রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনতে শুরু করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে ফুল শিল্পকে একটা সম্ভাবনাময়ী শিল্প হিসেবে এদিকে কোনো সুনজর দেয়া হয়নি। তৈরি হয়নি কোনো সুদূরপ্রসারী দিক নির্দেশনা ও নীতিমালা। ফুল রপ্তানির ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ফুলকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি রপ্তানিযোগ্য শিল্প হিসেবে। গড়ে উঠেনি ঋষড়বিৎ বীঢ়ড়ৎঃ রহফঁংঃৎু. পাশাপাশি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে ফুল রপ্তানি করে।
আমাদের দেশে ফুলের কতটুকু উৎপাদন শুরু হয়েছে তার পুরুটাই কৃতিত্ব দিতে হবে বেসরকারি উদ্যোগ। কৃষক পর্যায়ে যথেষ্ট সাড়া পড়েছে সমগ্র দেশে ফুল উৎপাদনে। ফুলের ব্যাপক চাহিদার জন্য অনেক কৃষকই ফুল উৎপাদনকে লাভজনক বলে মনে করেন। যশোর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং সাভারে শুরু হয়েছে ফুলের বাণিজ্যিক উৎপাদন। গোলাপ, গাদা, রজনীগন্ধ্যা, গ্লাডিওলাস ও অর্কিড উৎপাদন চোখে পড়ার মতো। এ ফুলগুলোর দেশে যেমন চাহিদা আছে তেমনি বিদেশেও চাহিদা প্রচুর। আর এ চাহিদাকে কাজে লাগাতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি শিক্ষা-গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফুলের ওপর গবেষণা বাড়াতে হবে। ফুল শিল্পকে আরো উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী করার জন্য সরকারকে সময়োপযোগী ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য 'হর্টিকালচারিস্টস বাংলাদেশ' প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ভালো হবে।
যেখানে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশে প্রচুর ফুলের চাহিদা রয়েছে- আমাদের সরকার এ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিলে গার্মেন্ট ও ওষুধ শিল্পের মতো ফুল শিল্পও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।








