লেখক: মোজাহেদুল ইসলাম
ই-কমার্সের মাধ্যমে লেনদেন হবে ১২ হাজার কোটি টাকা :সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ই-পেমেন্ট গেটওয়ে উন্মুক্ত করে দেয়ায় দেশে ই-কমার্সের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলা যায়। তবে ই-কমার্স নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা কিছু বিষয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ই-কমার্সের জন্য প্রয়োজনীয় মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নিয়েই রয়েছে কিছু সমস্যা। ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট এসব সমস্যা এবং বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটার কিছু সাইটের খবরাখবর নিয়ে লেখা হলো এই প্রতিবেদন। লিখেছেন মোজাহেদুল ইসলাম
একটা সময় পর্যন্ত আমরা কেবল শুনতাম, বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে পছন্দমতো কেনাকাটা করা যায়। প্রযুক্তির এই প্রসারের যুগে সেই সুবিধা এখন চলে এসেছে আমাদের হাতের নাগালে। আমাদের দেশেও এখন ঘরে বসেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করা যায় পছন্দমতো। বিদেশের মত আমাদের দেশেও চালু হয়েছে বেশকিছু অনলাইন দোকান বা কেনাকাটার ওয়েবসাইট, যেখান থেকে দেশীয় ক্রেতারা তাদের পছন্দমত পণ্য ঘরে বসেই কিনতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন
আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে এগিয়ে গেছে অনেকখানি। আউটসোর্সিং যারা করে থাকেন, তাদের অনলাইনে অর্জিত অর্থ সংগ্রহ করতে কিছুদিন আগ পর্যন্তও নির্ভর করতে হতো বিদেশী বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমের উপর। সরাসরি দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যেত না। পেমেন্ট গেটওয়ে’র অনুমোদন না থাকায় দেশে অনলাইনে কেনাকাটাও সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি বৈধ করতে গত ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়েছে, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত দেশে আনা যাবে। প্রাপ্ত অর্থ অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হবে। পরে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের হিসাবে ওই অর্থ জমা করবে। ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও স্বল্প অর্থ লেনদেনে এ পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজলভ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেপ্যাল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যে বাঁধা ছিল, তাও দূর হয়ে যাবে এর মাধ্যমে। এর ফলে দেশে ই-কমার্স বা অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টি অত্যন্ত বেগবান হয়ে উঠবে বলেই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সমস্যা রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকিং এ
ই-কমার্সের জন্য প্রয়োজন ই-কমার্স মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট। অনলাইনে কেনাকাটার সাইট চালু করার জন্য এটি আবশ্যক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে’র অনুমোদনের পর ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট প্রদান করে থাকে আমাদের দেশে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকে এই সার্ভিসটির জন্য চার্জ প্রদান করতে হয় ৩৫,০০০ টাকা। এই টাকা অবশ্য ডিপোজিট হিসেবে জমা হয় না, বরং এটি অফেরতযোগ্য। এই চার্জের পাশাপাশি তারা ভিসা কার্ডের জন্য ৭%, মাস্টার কার্ডের জন্য ৭% এবং ব্র্যাক এর নিজস্ব কার্ডের জন্য ৫% শতকরা হারে চার্জ করে থাকে। অর্থাত্, প্রতি ট্র্যানজেকশনের জন্যই এই হারে অর্থ কেটে রাখবে ব্যাংক। তার মানে, ৭% হারের জন্য ১০,০০০ টাকার একটা লেনদেন হলে ব্র্যাক ব্যাংক পাবে ৭০০ টাকা। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ লাভ একটি সাইট করতে পারে কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
ডাচ বাংলা ব্যাংক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট এর জন্য আলাদা করে ফি নেয় না। তবে ডাচ বাংলা ব্যাংকে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা অনেকটা ঝামেলার বলেই মন্তব্য করেন ই-কমার্সের বেশকিছু সাইটের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা। তবে কার্ডভেদে তাদের কর্তিত অর্থের পরিমাণ ভিসা কার্ডে ৫%, মাস্টার কার্ডে ৫% এবং নেক্সাস কার্ডে ৩%। এই হার ব্র্যাক ব্যাংক এর চেয়ে কম হলেও এই পরিমাণ অর্থ ব্যাংককে প্রদান করাটা আদতে ই-কমার্সের প্রসারের ক্ষেত্রে বড় একটি বাঁধা বলে মনে করেন প্রযুক্তিবিদরা।
সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার যুগে প্রবেশের বিকল্প নেই। বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকলেও বুঝতে হবে সব কাজের শুরুতেই নানান সমস্যা আসতে পারে। এসব অতিক্রম করে সামনের দিকে বাংলাদেশও ই-কমার্স তথা অনলাইন কেনাকাটায় অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এই আশা সকলের।
সা ক্ষা ত্ কা র
তৌফিক হাসান
হেড অব কার্ডস, ব্রাক ব্যাংক
২০১০ সালের নভেম্বর মাস থেকে আমরা ই-কমার্সের পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছি ভিসা কার্ডের জন্য। ব্র্যাক ব্যাংকই বাংলাদেশের ভিসা কার্ডের একমাত্র সার্টিফিকেশন হোল্ডার। অনেক দিন ধরেই দেশে ই-কমার্স প্রচলনের জন্য বলা হচ্ছে। আর ই-কমার্সই ভবিষ্যত্। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেমন বাস, রেলওয়ে, উড়োজাহাজ, লঞ্চ- সবকিছুতেই অনলাইনে টিকেট কাটতে পারলে মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হত। সরকারের বিভিন্ন সেবা, বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি, টেলিফোন সবকিছুই ই-কমার্সের মাধ্যমে হলে জীবন যাপন অনেক সহজ হত। আমরা সবসময় ই-কমার্সকে সারা পৃথিবীতে উন্মুক্ত করার কথা বলে আসছি, আমাদের দেশের পণ্য যাতে সারা বিশ্বের মানুষ কিনতে পারে। অবশেষে সরকার স্থানীয়ভাবে অনলাইন পেমেন্ট দেয়ার অনুমতি দেয়। মানুষের হাতে প্লাস্টিক মানি থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মাত্র ২০ লাখেরও কম মানুষের কাছে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড আছে। গত ৬ মাস ধরে ইন্টারনেটের ট্রানজেকশন বেড়েছে। আমরা ধারণা করছি ই-কমার্সের মাধ্যমে ১২,০০০ কোটি টাকার লেনদেন হবে ভবিষ্যতে। ব্র্যাক ব্যাংক ভিসা কার্ডের চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহকদের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলছে। এর জন্য আমরা নিয়ে থাকি ৩৫,০০০ টাকা। আর ট্রানজেকশন ফি ৫% এর মতো । গ্রাহক আরো বাড়লে ট্রানজেকশন ফিও কমে যাবে। দেখুন প্রথমদিকে ক্রেডিট কার্ড-এর ট্রানজেকশন ফিও অনেক বেশি ছিল। এখন গ্রাহক বাড়ার সাথে সাথে এটিও কমে গেছে।
আশিষ চক্রবর্তী
সহকারী মহাব্যবস্থাপক, এসএসএল ওয়্যারলেস
ই-কমার্স আর ই-বিজনেস-এর জন্য এসএসএল পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে কাজ শুরু করে ২০০৯ সালে নভেম্বর মাসে। এটি একটি অনলাইন মার্চেন্ট পেমেন্ট গেটওয়ে। এর মাধ্যমে ই-কমার্স ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশী টাকায় পেমেন্ট পেয়ে থাকে। ক্রেতারা ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে পছন্দমতো পণ্যের অর্ডার দেয়। সেই ওয়েবসাইটগুলো SSLCOMMERFZ এর দ্বারা যুক্ত। ক্রেতারা যে কোন কার্ড যেমন, ভিসা, মাস্টারকার্ড, ডিবিবিএল, নেক্সাস, ব্র্যাক ব্যাংক কার্ড প্রভৃতি দিয়ে পণ্য ক্রয় করতে পারে। এসএসএল ওয়্যারলেস দেশের প্রথম কোম্পানি যারা এই ধরনের পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা দিচ্ছে। অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট মালিকদের ডেডিকেটেড সার্ভার নেই, ব্যাংকগুলো অনেক গ্রাহককে মার্চেন্ট একাউন্ট দেয় না। দিনের তারতম্যে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়। আমরা তাদের জন্যও কাজ করছি। ব্যাংকের জন্য আরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী সেবা চালু করতে এই উদ্যোগ। কেউ ই-কমার্স পেমেন্ট সিস্টেমের জন্য মাত্র ২০,০০০ টাকায় আমাদের সাথে চুক্তি করতে পারে। প্রতি মাসে আমরা ২,০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছি। মার্চেন্টদের এখন আর কোন ব্যাংক যেতে হবে না। আমাদের এই পেমেন্ট গেটওয়ে ক্রেতা ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্য নিরাপদ করার ব্যবস্থা রেখেছি। আমরা মে ২০১০ থেকে ৩০টি মার্চেন্ট-এর পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারলাইন্স, বুক স্টোর প্রভৃতি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা এই কমার্স স্টোরগুলোতে লেনদেন হয়। ইসলামি ব্যাংকের সাথেও আমরা সম্পৃক্ত হচ্ছি। কার্ডগুলোর ট্রানজেকশন ফি যথাক্রমে মাস্টারকার্ড ৪%, ভিসা ৫% এবং ব্র্যাক ৫%।
অনলাইনে কেনাকাটার দেশী কিছু সাইট
আমাদের দেশে চালু হওয়া অনলাইন কেনাকাটার সাইটগুলোর মধ্যে প্রায় সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়। শাক-সবজি থেকে শুরু করে এসব সাইটে পাওয়া যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্য। রয়েছে গৃহস্থালী পণ্য, বইপত্র, উপহার সামগ্রীসহ অন্যান্য পণ্য। আর এসব সাইটের মাধ্যমে নিজে কেনাকাটা করার পাশাপাশি সাইটের মাধ্যমেই সরাসরি উপহার পাঠিয়ে দেয়া যায় কাঙ্ক্ষিত মানুষের কাছে। এরকম কিছু সাইটের ঠিকানা দেয়া হলো নিচের তালিকায়।
www.ajkerdeal.com
www.bangladeshbrand.com
www.amardesheshop.com
www.shurjomukhi.com.bd
www.technobd.com
www.bdjobs.com
www.ekushey.com.bd
www.mydomainic.com
www.uabdl.com
www.onlineshopdiamondworldltd.com
www.rapidearth.com
www.akhoni.com
www.ryansbooks.com
www.bestwaybazaar.com
www.desktopbd.com
www.myshareinfo.com
www.rkmdhaka.org
www.champs21.com
www.boi-mela.com
www.gmgairlines.com








