৪০ বছর পর সেই মুকুন্দপুরের মাটিতেই একসঙ্গে ’৭১ সালের দুই সহযোদ্ধা: বীর প্রতীক শাহ্জামান মজুমদার (ডানে) এবং মেজর জেনারেল (অব.) অশোক ভার্মা
কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের মাঝে কেবল সহযোদ্ধাই নয়, ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনা কর্মকর্তা অশোক ভার্মা খুঁজে পেয়েছিলেন সন্তানের মুখ। মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর, কদিন আগে অশোক এলেন বাংলাদেশে। শাহজাহানের খোঁজ করতে গিয়ে কাকে খুঁজে পেলেন তিনি? জানাচ্ছেন মোছাব্বের হোসেন এবং মাহফুজ রহমান
১৬ এপ্রিল, ২০০৮
‘শাহজাহান কি শুনতে পাচ্ছেন?’—এই শিরোনামে একটা লেখা ছাপা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৬ এপ্রিল, প্রথম আলোর খোলা কলম পাতায়। লেখক সৈয়দ রুহুল আমীন। শাহজাহান নামের এক মুক্তিযোদ্ধার কাছে লেখা ওই খোলা চিঠিতে লেখক জানিয়েছিলেন, পুত্রতুল্য এক সহযোদ্ধাকে খুঁজে ফিরছেন সত্তরোর্ধ্ব সাবেক সেনা কর্মকর্তা—অশোক ভার্মা। যাঁকে খুঁজছেন, নাম তাঁর শাহজাহান। কিন্তু কেন এই খুঁজে ফেরা আর কীভাবেই বা হারিয়ে গেলেন তিনি? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা হাজির স্বয়ং অশোক ভার্মার সামনে। এর আগে জানা যাক তাঁর পরিচয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদ থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন ১৯৯১ সালে। ৩৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনিতে। ১৯৭১ সালে, ভারতীয় এই সেনা কর্মকর্তা ছিলেন ১৮ রাজপুত রেজিমেন্টের প্রধান। সেই বরাতে তিনি তাঁর দল নিয়ে পা রেখেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে। উদ্দেশ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনী হিসেবে মুক্তিবাহিনীকে সহযোগিতা করা। ৯ নভেম্বর মুকুন্দপুর থেকে শুরু হয় সেই যুদ্ধযাত্রা। ১৯ নভেম্বর মুকুন্দপুরের আকাশে ওড়ে বাংলাদেশের পতাকা। এর পরই অশোক তাঁর দল নিয়ে চলে যান আখাউড়া মিশনে। ‘সেখানেই ৩০ নভেম্বর দেখা পাই ১১ জন তরুণ মুক্তিযোদ্ধার। যাঁরা ছিলেন আমাদের গাইড। সেই দলেরই একজন ছিল শাহজাহান। ১১ জনের ওই তরুণ দলের মধ্যে সে-ই ছিল সর্বকনিষ্ঠ। বয়স আনুমানিক ১৫-১৬। বাংলা, ইংরেজি, উর্দু—সব ভাষাতেই সমান দখল। চটপটে, চোখে যুদ্ধজয়ের নেশা। জায়গাটাও চেনে হাতের তালুর মতোই। আর সবার থেকে সহজেই আলাদা করা যায় ছেলেটাকে।’ কদিন আগে এভাবেই একটা স্মৃতির জানালা খুলে দিয়েছিলেন অশোক। সেই জানালা দিয়ে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৯৭১ সালে; বলছিলেন সহযোদ্ধা শাহজাহানের কথা।
সময়টা খুব বেশি নয়, পরিস্থিতি অস্থির, চারদিকে যুদ্ধের ডামাডোল। তারই মাঝে অশোক ঠিকই শাহজাহানের কাঁধে হাত রাখলেন। সেই হাতের স্পর্শে কেবল সহযোদ্ধার আবেগই ছিল না; ছিল পিতৃসম মমতা। শাহজাহানদের সঙ্গে একে একে কয়েকটি সফল অপারেশন শেষে অশোক ও তাঁর দল পা রাখে ঢাকায়। তত দিনে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্র। ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাস। বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিলেন অশোক ভার্মা। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান রয়ে গেলেন নিজ দেশে। কিন্তু সেই বিদায়বেলায় ৩৬ বছর বয়সী অশোক ভার্মা খেয়াল করলেন শাহজাহানের চোখে কান্না। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে সেদিনের কথা বলছিলেন অশোক, ‘শাহজাহানের চোখের ওই কান্নার ধারা আমার বুকে দুঃখের নদী হয়ে গেল। এমনিতেই তাকে আমি তরুণ যোদ্ধা হিসেবে আমি অন্য চোখে দেখছিলাম, তার ওপর বিদায়বেলার ওই স্মৃতি ভীষণ গভীর দাগ কাটল আমার মনে।’ দেশে ফিরেও ভুলতে পারলেন না, আর তাই সুযোগ পেলেই শাহজাহানের খোঁজ। বাংলাদেশের কাউকে পেলেই অশোকের জিজ্ঞাসা, ‘শাহজাহান নামের এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধাকে কি চেনেন আপনি? তার কোনো খোঁজ দিতে পারেন?’ বারবার ‘না’ শুনতে শুনতে যখন আশার আলো নিভু নিভু, ঠিক তখনই, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিমন্ত্রণ। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনা কর্মকর্তাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনই ছিল নিমন্ত্রণের উপলক্ষ। নিমন্ত্রণে সাড়া দিলেন অশোক। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশি সহযোদ্ধাদের কাছে শাহজাহান নামের এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কথা তুলতেই কয়েক দফা হতাশায় ডুবতে হলো তাঁকে। কেবল নাম ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকায় বাংলাদেশের জনসমুদ্র থেকে ‘একজন শাহজাহানের’ সন্ধান দিতে পারলেন না কেউই। আর ঠিক তখনই অশোক দেখা পেলেন সৈয়দ রুহুল আমীনের। জিজ্ঞেস করলেন সেই পুরোনো প্রশ্ন, ‘শাহজাহান নামে কাউকে কি তুমি চেনো?’ রুহুলও চিনলেন না সেই শাহজাহানকে। তবে খেয়াল করলেন অশোকের চোখে বেদনার ছাপ। তাই প্রথম আলোতে লিখলেন খোলা চিঠি, ‘শাহজাহান কি শুনতে পাচ্ছেন?’। অনেক শাহজাহানই শুনতে পেলেন, শুনতে পেলেন একাধিক শহীদ শাহজাহানের স্বজনেরা। কিন্তু হায়, অশোক যে শাহজাহানকে খুঁজে ফিরছেন, সেই শাহজাহানকে যে পাওয়া গেল না কোথাও!
৩ এপ্রিল ১৯৭১
শাহজাহান উপাখ্যান থেকে বেরিয়ে এসে চলুন এবার আমরা শুনি শাহ্জামানের কথা। হ্যাঁ, শাহজাহান নয়, শাহ্জামান। পুরো নাম শাহ্জামান মজুমদার। ভদ্রলোক থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
১৯৭১ সাল, জিন্নাহ কলেজের (এখনকার সরকারি তিতুমীর কলেজ) উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহ্জামান। থাকেন বড় বোনের বাসায়, মিন্টো রোডে। ভীষণ প্রাণচঞ্চল, দুনিয়ার তাব ৎ বিষয়ে বিপুল আগ্রহ। দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কেও সমান কৌতূহল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (এখনকার সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নিয়মিত যাতায়াত।
‘মার্চ মাস থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিদের আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছিল। বিহারিরা হয়ে উঠছিল বেপরোয়া। দেশের অমন টালমাটাল অবস্থা আমাকেও তুমুল নাড়া দিচ্ছিল। জানতাম ইকবাল হলে তখন ছাত্ররা সংগঠিত হচ্ছে। তাই সময় পেলেই ছুটে যাই সেখানে। দেরি করে বাড়ি ফেরা, ফলাফল বড় বোন ও ভাইয়ের বকুনি। একদিন তো তাঁরা নিষেধাজ্ঞাই জারি করলেন, বাসা থেকে বেরোতে পারবে না তুমি। তাই ২৩ মার্চ পালিয়ে গেলাম বাসা থেকে, উঠলাম ইকবাল হলে।’ দেশ স্বাধীন করার আন্দোলনে নিজের জড়িয়ে পড়ার গল্প শোনাচ্ছিলেন শাহ্জামান। তবে ২৩ মার্চ ইকবাল হলে উঠলেও তার পরদিনই ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরে যেতে হলো! ছাত্রনেতা আবদুল বাতেন চৌধুরী কিশোর শাহ্জামানকে ডেকে বললেন, সিরাজুল আলম খান খুঁজছেন তোমাকে। আকাশ থেকে পড়লেন তিনি। ভেবে পেলেন না, এত বড় রাজনীতিক কেন তাঁর মতো এক কিশোরকে তলব করলেন। ‘দুরু দুরু বক্ষে হাজির হলাম সিরাজুল আলম খানের সামনে। বললেন, তুই কি জামানের (শামসুজ্জামান মজুমদার) ভাই? বললাম, হ্যাঁ। বলেই ফেঁসে গেলাম। সিরাজুল সাহেব বললেন, তোর ভাই আমার বন্ধু, তোকে খুঁজতে এসেছিল। বাসায় ফিরে যা।’ খানিকটা বিরতি নিয়ে ফের সেই দিনে ফিরে যান শাহ্জামান, ‘ভাগ্য কী ভালো, ২৪ মার্চ ঘরে ফিরে গেলাম, এল সেই কালরাত্রি—২৫ মার্চ! বেঁচে গেলাম আমি!’
শাহ্জামান পরদিন ইকবাল হলে গিয়ে দেখলেন চারদিকে কেবল রক্ত আর রক্ত। ‘সেই রক্ত আর নিষ্ঠুরতা দেখে কেউই যুদ্ধে না গিয়ে পারে না। জগন্নাথ হল আর শামসুন্নাহার হলের মাঝামাঝি একটা স্থানে দেখি, লাশ চাপা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাপা পড়েনি একটা হাত আর পা! কাক ঠুকরে খাচ্ছে হাত আর পা ধরে টানছে কুকুর! সেই দৃশ্য দেখে মাথায় রক্ত চড়ে গেল! সিদ্ধান্ত নিলাম, যুদ্ধে যাব।’ মানুষের নিষ্ঠুরতা একটা কিশোরকে কী করে মুহূর্তেই পূর্ণ বয়সীতে রূপান্তর করতে পারে, শাহ্জামান তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত তো করেছিলেনই, শাহ্জামান নিজের অভিজ্ঞতাকে শাণিত করেছিলেন সেই ছেলেবেলাতেই। বাবা রজব আলী মজুমদার পেশায় ছিলেন সরকারি চাকুরে আর নেশায় শিকারি। তাই রাইফেলের সঙ্গে পরিচয় ছিল ছেলেবেলা থেকেই। আর বাড়িতে ছিল নিজের গড়া একটা ছোটখাটো ল্যাবরেটরি। সেখানকার খুদে বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি নিজেই। মাথা খাটিয়ে তৈরি করে ফেলতেন ছোটখাটো পটকাজাতীয় জিনিসপত্তর! ব্যস, দুইয়ে দুইয়ে চার—যুদ্ধযাত্রা। এসে গেল সেই তারিখ, ৩ এপ্রিল। বাসায় ভাইবোনদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে দেশ স্বাধীনের দৃপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন শাহ্জামান।
‘একাধিক বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে চলে গেলাম নরসিংদী। সেখানেই দৈবা ৎ দেখা মুক্তিযোদ্ধাদের একটা দলের সঙ্গে। ভিড়ে গেলাম সেই দলে। তারা আমাকে নিয়ে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পাঠিয়ে দিল ভারতে। ট্রেনিং নিলাম ৭ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর ফের দেশের মাটিতে পা রাখলাম। শুরু হলো যুদ্ধ, মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার লড়াই।’ বলছিলেন শাহ্জামান।
৩০ নভেম্বর ১৯৭১
ট্রেনিং শেষে যুদ্ধ। একে একে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশপাশের কয়েকটি চা-বাগানে অপারেশনে অংশ নিলেন শাহ্জামান। এভাবেই পেরিয়ে যাচ্ছিল দিন। এল ৩০ নভেম্বর। শাহ্জামান ও আরও ১০ জন তরুণ মুক্তিযোদ্ধার একটি দল যোগ দিল ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে। মিত্রবাহিনীটি ছিল ১৮ রাজপুত রেজিমেন্ট। দলনায়ক অশোক ভার্মা। শুরু হলো আখাউড়া শত্রুমুক্তর অভিযান। যুদ্ধ চলছে, এরই মাঝে সত্যিকার ‘ওরা ১১ জনের’ একজন শাহ্জামানকে চোখে ধরল অশোকের। দলের সর্বকনিষ্ঠ এই কিশোরকে নিজের ছেলে বলেই মনে হলো তাঁর। শাহ্জামান তখন সেটা আঁচ করতে পারেননি, তবে যুদ্ধকালীন একটা স্মৃতি মেলে ধরলেন আমাদের সামনে, ‘যুদ্ধক্ষেত্র। ফক্স হোল (গর্তবিশেষ) খুঁড়ে বসে আছি। সামনেই শত্রুশিবির। তুমুল গোলাগুলি। আচমকা একটা মর্টার শেল উড়ে গেল ঠিক আমার পাশ ঘেঁষেই! কান ফাটানো শব্দ, ভীষণ তাপ আর প্রচণ্ড আতঙ্ক! এরপর আর কিছু মনে নেই। ভেবেছিলাম, আর বুঝি বেঁচে নেই আমি। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর চোখ মেলে তাকাতেই দেখি আমার মুখের ওপরে ঝুঁকে আছে অশোক ভার্মার উদ্বিগ্ন মুখ! লক্ষ করলাম, আমার চোখ মেলা দেখেই মিত্রবাহিনীর দলনেতার মুখে স্বস্তির ছায়া।’
পাঠক, আঁচ করেছেন কিছু? হ্যাঁ, অশোক ভার্মা যে শাহজাহানকে খুঁজে ফিরছিলেন তিনি আসলে শাহজাহান নন, শাহ্জামান!
১৭ নভেম্বর ২০১১
বয়স এখন আশি ছুঁই ছুঁই। তার মাঝে অশোক ভার্মা বসবাস করছেন ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে। এরই মধ্যে, কদিন আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর পর ডাক এল সেই মুকুন্দপুর থেকে! কেন? ১৯ নভেম্বর মুকুন্দপুর মুক্তি দিবস এবং দিনটিকে ঘিরে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর আনন্দ পুনর্মিলনীতে যোগ দেওয়ার জন্য। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুকুন্দপুরের সাবসেক্টর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) সায়ীদ আহমদ। তিনিও মুকুন্দপুরে নিয়ে আসার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছিলেন অশোকের সঙ্গে। শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন অশোক। তবে এরই মধ্যে সৈয়দ রুহুল আমীনকে আবারও শাহজাহানের খোঁজ নেওয়ার ব্যাপারে সায়ীদ আহমদের সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। রুহুল শাহজাহানের খোঁজ করতেই সায়ীদ বললেন, ‘শাহজাহান নয় সম্ভবত শাহ্জামান। শাহ্জামান নামের একজনকে চিনি আমি। বীর প্রতীক খেতাবও পেয়েছেন তিনি।’ ব্যস, যোগাযোগ করা হলো শাহ্জামানের সঙ্গে। নিশ্চিত হওয়া গেল, ৪০ বছর আগে দেখা যে শাহজাহানকে খুঁজছিলেন অশোক, সেই শাহজাহান আসলে এই শাহ্জামান। এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলেন, মুকুন্দপুরে যাবেন তিনি!
১৭ নভেম্বর ২০১১। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। ঢাকায় পৌঁছেছেন অশোক, সস্ত্রীক। সৈয়দ রুহুল আমীনের বাসায় অপেক্ষার প্রহর গোনা। কখন আসবে শাহজাহান কিংবা শাহ্জামান? বেজে উঠল দোরঘণ্টি। উত্তেজনা ছুঁয়ে গেল অশোককে। দরজার ওপাশ থেকে ভেতরে ঢুকলেন মধ্যবয়সী এক সুদর্শন পুরুষ। ৪০ বছর আগে দেখা এক কিশোর শাহ্জামানের সঙ্গে এই পুরুষকে মেলাতে পারলেন তিনি? মেলাতে পারলেন কি পারলেন না, চোখে তাঁর আনন্দাশ্রু! এক বাবা যেন ফিরে পেলেন তাঁর হারানো ছেলেকে। মাঝে কেবল পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা, এরপর মমতার আলিঙ্গনে তারা বেঁধে ফেললেন একে অপরকে। দুজনের চোখই ভিজে যাচ্ছে চোখের জলে, সেই জলে নিশ্চয়ই ধুয়েমুছে যাচ্ছিল অশোকের ‘ছেলে’ হারানোর বেদনা! ‘ভীষণ ভাগ্যবান আমি! ৪০ বছর বাদে যে শাহজাহানকে খুঁজে পাব, তা ভাবতেও পারিনি!’ শাহ্জামানকে এখনো শাহজাহান নামেই ডাকেন অশোক!








