আমাদের বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র(বিশেষ করে ছোট দের জন্য লেখা)

 

মোঃ মিন্টু হোসেন

গাছেরও যে অনুভূতি আছে, তাদেরকে আঘাত করলে বা আদর করলে তারা যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, আঘাত করলে ওরাও ব্যথা পায়, সেটা প্রথম কে প্রমাণ করেছিলেন, বলো তো? আমাদের দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুতাকে সবাই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু নামেই চেনেএমনি এমনিই কিন্তু তার নাম আচার্য হয়নি, বিজ্ঞানের ইতিহাসে তার রয়েছে অসামান্য অবদানআর আইনস্টাইনকে চেনো না, সেই যে ঝাঁকড়া চুলের আত্মভোলা বিজ্ঞানী? তিনি তো তার সম্পর্কে বলেছেন, জগদীশচন্দ্র বসু বিরাট এক বিজ্ঞানীভাবছো, এতোদিন পরে হঠাৎ তাঁর গল্প করতে শুরু করলাম কেনো? আরে, ৩০ নভেম্বর যে তাঁর জন্মদিন!

জগদীশচন্দ্র বসু কিন্তু খুব বড়ো মাপের একজন বিজ্ঞানীবাঙালিদের মধ্যে তার মতো বড়ো বিজ্ঞানীর নাম করতে হলে এক সত্যেন বসুর নামই বলা যায়সত্যেন বসুর নাম শোনোনি? তাঁর সবচেয়ে বড়ো অবদান হলো বোস-আইনস্টাইন তত্ত¡’; নাম শুনেই তো বুঝেছো, আইনস্টাইনের সাথে মিলে তিনি এই কাজ করেছেনতিনি কতো বড়ো বিজ্ঞানী তা বোঝাতে আরো কিছু বলতে হবে? এই সত্যেন বসুও কিন্তু জগদীশচন্দ্র বসুরই ছাত্র ছিলেন

তবে বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য কিন্তু তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছেছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি তার খুব ঝোঁক ছিলোতিনি ছিলেন যেমন শান্তশিষ্ট, জানার ব্যাপারে তেমনই জেদীকোনো কিছু জানার আগ্রহ হলে তার জন্য সবকিছু করতেন তিনিতিনি যে কত্তো গবেষণা করেছেন! তার সবগুলোই যে সফল হয়েছেন, তা কিন্তু নয়; অনেক গবেষণাতেই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেনসাফল্যে তিনি যেমন আনন্দিত হতেন, ব্যর্থ হলে কিন্তু মোটেও দমে যেতেন নাতার কাছে মনে হতো- সাফল্য-ব্যর্থতা বড়ো নয়, জানার চেষ্টা করে যাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণএকই রকম কথা বলতেন আধুনিক অলিম্পিকের জনক ব্যারন পিয়েরে দ্য কুবার্তো, তিনি বলতেন- জয়-পরাজয় নয়, অংশগ্রহণই বড়ো কথাআবার ম্যাক্সিম গোর্কির নাম শুনেছো না, বিখ্যাত রুশ লেখক? তিনি তাঁর ৩ খণ্ডের বিশাল আত্মজীবনীর এক জায়গায় লিখেছেন, কোনো কিছুর ফলাফল নয়, তার রূপায়ণের প্রক্রিয়াটাই আমাকে বেশি আনন্দ দেয়মানে, তাঁর কাছেও ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না, বরং জানাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলোজগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন বিজ্ঞানী, তাই তিনি সারাদিন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেড়াতেনআর ম্যাক্সিম গোর্কি ছিলেন জাত সাহিত্যিক, তাই তিনি সারাদিন মানুষ আর পশুপাখিদের খুব করে খেয়াল করতেন, কে কী করে, কিভাবে করে

তো বলছিলাম আমাদের বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর গল্পতিনি জন্মেছিলেন ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর, ময়মনসিংহ শহরেতার বাবার নাম ভগবানচন্দ্র বসু, মায়ের নাম বামা সুন্দরীজগদীশচন্দ্রের পিতা ভগবানচন্দ্র বসু ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটভগবানচন্দ্র বসুর তখন ফরিদপুরে চাকরি করেনছেলে জগদীশচন্দ্র বসুকে প্রথম ভর্তি করা হয় ওই শহরেরই একটি বাংলা স্কুলেতখন অভিজাতদের মধ্যে ছেলেমেয়েকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করানোর প্রবণতা ছিলো এখনকার চেয়েও বেশি, তখন যে ইংরেজদেরই রাজত্ব চলছিলোভগবানচন্দ্র বসু কিন্তু আবার সব সময়ই মাতৃভাষার প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেনতাই তো ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দিলেন বাংলা স্কুলেআর ওই স্কুলে জগদীশের সহপাঠীরা প্রায় সবাই-ই ছিল সাধারণ- দরিদ্র ঘরের সন্তানতাদের সঙ্গে মিশে, খেলাধুলা করতে করতেই শিশু জগদীশের মনে প্রকৃতি, গাছপালা আর কীটপতঙ্গ নিয়ে তৈরি হলো আগ্রহতা নইলে কি আর তিনি গাছের প্রতিক্রিয়ার সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার করতে পারেন!

জগদীশচন্দ্রের ছেলেবেলা কেটেছে এক ভয়ঙ্কর ডাকাতের সঙ্গেসেই ডাকাতটি আবার যে সে ডাকাত ছিলো না, রীতিমতো জেলখাটা ঘাগু ডাকাত! জেলফেরত ডাকাতটি অবশ্য তার বন্ধু বনে গিয়েছিলোসে ঘটনাটিও বেশ মজারজগদীশ চন্দ্রের বাবা জেলফেরত এই ডাকাতকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেনআর ছোটো জগদীশের সংস্পর্শে এসে সেই ডাকাতটিও এক্কেবারে ভালো মানুষটি হয়ে গিয়েছিলোডাকাতটির দায়িত্ব ছিলো জগদীশ চন্দ্রের দেখাশোনা করারআর জগদীশের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই যেনো ডাকাতটির স্বভাব বদলে একেবারে ছোট্টো ছেলেদের মতো হয়ে গেলো! এমনই ভালো ছিলেন আমাদের জগদীশচন্দ্রআর তখন তো শিশু জগদীশ প্রতিদিন ডাকাত সর্দারের কাঁধে জাঁকিয়ে বসে স্কুলে যাওয়া-আসা করতেন! আর যাওয়া-আসার পথে কতো যে গল্প শুনতেনসব সেই জেলখাটা ঘাগু ডাকাতের ডাকাতির রোমহর্ষক গল্প

খেলাধুলার ব্যাপারেও জগদীশের খুব আর্কষণ ছিলোএমনকি ফরিদপুরে তার একটি ক্রিকেট দলও ছিলআবার তাঁর বাবা একবার তাকে একটি টাট্টু ঘোড়া কিনে দিয়েছিলেনআর সেই বয়সেই জগদীশচন্দ্র ঘোড়া চালনায় বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠেনকিছুদিনের মধ্যেই ফরিদপুর শহরে এক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন স্থানীয় লোকজননিজের ঘোড়ায় চড়ে জগদীশ ওই প্রতিযোগিতা দেখতে গিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলো ওই জেলখাটা ঘাগু ডাকাততার ছোট্টো টাট্টু ঘোড়াটিকে দেখে একজন প্রতিযোগী ঠাট্টাচ্ছলে জগদীশচন্দ্রকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়আর ছোট্টো জগদীশও সাত-পাঁচ না ভেবে রাজি হয়ে যানএর আগে কখনও জগদীশ কোনো ঘোড়দৌড়ে অংশগ্রহণ করেন নিতবু প্রতিযোগিতায় নেমে তিনি মোটেও ভয় পেলেন নাএকবারও না থেমে তিনি দৌড় শেষ করলেন; অবশ্য পৌছলেন সবার শেষেএমনিতেই তিনি কখনো ঘোড়দৌড় করেননি, তার উপর তাঁর ঘোড়া তো টাট্টু ঘোড়া, গায়ে-গতরে ছোটোখাটোতবু তিনি কেনো অংশ নিয়েছিলেন? ঐ যে, তার নীতিই তো ছিলো, সাফল্য-ব্যর্থতা বড়ো নয়, চেষ্টা করে যাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণআর তার এ ভাবনাটা বড়ো হয়েও ছিলোতিনি যখন অনেক বড়ো একজন বিজ্ঞানী হয়ে গিয়েছিলেন, তখনও তিনি বিজ্ঞানের জন্য কাজ করেই খুশি থাকতেন, বিজ্ঞানের জন্য কাজ করাতেই ছিলো তার আনন্দযেমন তাঁর রেডিও আবিষ্কারের ঘটনাটিও ধরো নারেডিও-র কাজ করার মূলনীতি মার্কনির মতো তিনিও আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে নাম হলো মার্কনিরতিনি তখন হতাশ না হয়ে বরং বিজ্ঞানের অন্য জায়গায় কাজ করতে শুরু করলেনআর তার এসব সাফল্য-ব্যর্থতা আর সুখ-দুঃখের কথা তিনি লিখতেন তাঁর বন্ধু, আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে; চিঠিতে বন্ধুর সাথে কতো কিছুই না ভাগাভাগি করতেনজানো না বুঝি, আমাদের কবিগুরু যে তাঁর খুব ভালো বন্ধু ছিলেন

জগদীশচন্দ্রের বয়স যখন দশ বছর, অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার হিসেবে বাবা ভগবানচন্দ্র বদলি হলেন বর্ধমানেতখন পর্যন্ত বর্ধমান ছিল খুব স্বাস্থ্যকর জায়গাকিন্তু বছর না ঘুরতেই সেখানে দেখা দিলো ম্যালেরিয়ার প্রকোপ, আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা গেলোভগবানচন্দ্র স্বভাবতই দুঃস্থ মানুষের সেবায় নেমে পড়লেনজগদীশচন্দ্র ভর্তি হলেন কলকাতার হেয়ার স্কুলেসেখানে মাস তিনেক পড়াশোনার পর চলে গেলেন সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলেওখানে আবার তার সহপাঠীরা অধিকাংশই ছিল ইংরেজ সন্তানতার ওপর ওরা সবাই কথাও বলতো ইংরেজিতেতাই জগদীশচন্দ্রও ওদের সাথে তেমন খাতির জমাতে পারতেন নাআর ওরা এমনই দুষ্টু, প্রথমদিনই শান্তশিষ্ট জগদীশকে লাগিয়ে দিলো ক্লাসের সবচেয়ে শক্তপোক্ত ছেলেটার সঙ্গেতবে শান্তশিষ্ট হলে কি হবে, তিনি ছিলেন খুবই সাহসী; সাহস করে লড়েছিলেন সেই শক্তপোক্ত ইংরেজ ছেলেটার সঙ্গেসেন্ট জেভিয়ার্সের যে হোস্টেলে তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল, সেখানে আবার তিনি ছিলেন সবার ছোটোছোটো বলে সবাই-ই তাকে এড়িয়ে যেতোবন্ধুর অভাব পূরণে তিনি বন্ধু হিসেবে বেছে নিলেন গাছ-গাছালিদেরহোস্টেলের আঙিনার পাশে ছোট্টো একটি বাগান করা শুরু করেন তিনিআর হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে পশুপাখিও কিনতে শুরু করলেনএভাবেই ছোটোবেলা থেকেই গাছ-গাছালি আর পশুপাখিদের প্রতি তাঁর অন্যরকম এক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়

১৮৭৯ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হনআর এ সময়েই তাঁর ভবিষ্যত জীবনের ভিত গড়ে ওঠেরেভারেন্ড ফাদার লাফোন্ট-এর উৎসাহে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী হয়ে উঠেনলাফোন্টের উদ্যোগে তাকে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়, পরের বছরগুলোতে তিনি পদার্থবিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা করেনতবে প্রথম বছরে তিনি পড়েছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়েপরে ১৮৮৪ সালে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে ট্রাইপজ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সাথে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেনপরে একই সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন

আলো কেমন করে পথ চলে? আলোর ধর্মই বা কেমন? এমনই সব বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন তিনিআকাশ-তরঙ্গ ও বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গের (ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ) ওপর গবেষণা করতে গিয়েই জগদীশচন্দ্র বেতার বা রেডিওর মূলনীতি আবিষ্কার করেনবিনাতারে শব্দ প্রেরণের ক্রিস্টাল রিসিভারনামের যে বেতার যন্ত্রটি তিনি আবিষ্কার করেন, তার সাহায্যে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত তাঁর বাসভবনে সাংকেতিক শব্দ প্রেরণ করা যেতোএছাড়া তিনি নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে অদৃশ্য-আলোতেও দৃশ্যমান আলোর সকল ধর্মই বর্তমানআর তাঁর এসব গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বিশ্বের প্রধান প্রধান বিজ্ঞান সাময়িকীগুলোতে প্রকাশিত হয়তার গবেষণা কর্মের ওপর ভিত্তি করেই ১৮৯৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.এস.সি ডিগ্রি দেয়১৮৯৯ থেকে ১৯০৭- এই সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু জীব ও জড়ের উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গভীর পড়াশোনা ও গবেষণা করেনতিনি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, জীব ও জড় বস্তুর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎপ্রবাহ তাদের আণবিক গঠনে একই রকম উদ্দীপনার সৃষ্টি করেএ ধরনের কিছু ধারাবাহিক গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে প্রাণীদেহে এবং শাকসবজির কোষসমূহ বৈদ্যুতিক ক্রিয়া দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়, সাড়া দেয়এছাড়া তাপ, ঔষধ, রাসায়নিক দ্রব্য এবং যান্ত্রিক চাপেও একইভাবে এরা উদ্দীপ্ত হয়তিনি আরও দেখিয়েছেন, একইভাবে নির্দিষ্ট কিছু অজৈব পদার্থেও সমরূপ উদ্দীপনা ঘটানো যেতে পারে

জগদীশ বসু উদ্ভাবিত বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যন্ত্রটির নাম ক্রেসকোগ্রাফএটি সামান্য নড়াচড়াকে এক কোটি গুণ বিবর্ধিত করে মানুষের দৃষ্টিগোচর করে তুলতে পারেএছাড়াও পরিবাহিতা পরিমাপক, ট্রান্সপিরোগ্রাফ, ফটোসিনথেটিক গ্রাহক এবং চৌম্বক রেডিওমিটার তাঁর উদ্ভাবিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র

উপরের ছবির দুইটি যন্ত্র জগদীশচন্দ্র বসুর রেডিওর দুইটি অংশ; প্রথম যন্ত্রটি প্রেরক যন্ত্র, আর পরেরটি গ্রাহক যন্ত্র

জগদীশচন্দ্র বসু কিন্তু বেশ লেখালেখিও করেছেনতোমরা তো এখন কতো সায়েন্স ফিকশন পড়ো, তাই না? বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাই-ফাই গল্পটি কিন্তু তিনিই লিখেছিলেনএছাড়াও বিজ্ঞানের নানা বিষয় খুব সহজ করে বাংলায় অনেকগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক লেখাও লিখেছিলেনআর সেসব লেখাগুলো একত্র করে পড়ে একটা বইয়ে সংকলনও করা হয়েছে, নাম অব্যক্ত’; আকারে খুব একটা বড়ো নয়, পারলে ওটা জোগাড় করে খুব করে পড়ে নিও

আমাদের বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কী বলেছেন জানো? ‘জগদীশচন্দ্র যেসব অমূল্য তথ্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন, তার যে কোনটির জন্যই বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা উচিতএকরম এক বিজ্ঞানীর দেশে জন্মেছি বলে আমরা গর্ব করতেই পারি, তাই না? আর তোমাদের মধ্যেও তো এমন অনেকেই আছো, যারা বড়ো হয়ে বিজ্ঞানী হতে চাও, তোমাদের জন্য জগদীশচন্দ্র বসু কিন্তু অনেক বড়ো এক অনুপ্রেরণার নামকে জানে, হয়তো তোমাদেরই কেউ একদিন জগদীশচন্দ্র বসু- সত্যেন বোসদের কাতারে নাম লেখাবে, তোমাদের প্রশংসা করবে গোটা বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানী আর বিজ্ঞানপ্রেমীরাজগদীশচন্দ্র বসুও কিন্তু তেমনই চেয়েছিলেন, তাই তাঁর নিজ গ্রাম রাঢ়িখালে নির্মাণ করেছিলেন বসু বিজ্ঞান মন্দির’, যেখানে বাংলায় বিজ্ঞানের চর্চা হবে, বাঙালি ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞানের চর্চা করবেঅবহেলায় সেই বিজ্ঞান মন্দির এখন জীর্ণ, তাই বলে কিন্তু জগদীশচন্দ্র বসুর কীর্তি মলিন হয়নিতোমরাও যদি এমনি কালজয়ী আবিষ্কার করতে পারো, কার সাধ্য তোমাদের সেই কীর্তিকে মলিন করে, তোমাদের নামকে মুছে দিতে পারে?

 

Share/Save/Bookmark

বিশ্বের সেরা এনজিও’র তালিকায় শীর্ষে ব্র্যাক বিশ্বের সেরা এনজিও’র তালিকায় শীর্ষে ব্র্যাক অক্সফাম, কেয়ার ও সেভ দ্য চিল্ড্রেনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ‘সেরা ১০০’ বেসরকারি সাহায্য সংস্থার (এনজিও) তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি- ব্র্যাক। সুইজারল্যান্ডের সাময়িকি ‘দ্য গ্লোবাল জার্নাল’ এই তালিকা তৈরি করেছে। ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্... বিস্তারিত...

বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের পরিচয় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের পরিচয় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে রাশিয়ার মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে এমএস ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে মাইক্রোবায়োলজিতে পিএইচডি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট বায়োকেমিস্ট্রিতে পিএইডি ডিগ্রী ... বিস্তারিত...

দেশী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী-এগারটি দেশের ১৪ কোটি মানুষকে সেবা দিচ্ছে ব্র্যাক দেশী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী-এগারটি দেশের ১৪ কোটি মানুষকে সেবা দিচ্ছে ব্র্যাক ১৯৭২ সালে ব্র্যাক তার যাত্রা শুরু করে। এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তিনি এখন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে এর ১ লাখ ২০ হাজার কর্মী বিশ্বব্যাপী ১১টি দেশে ১৪ কোটি মানুষের জীবন-সংগ্রামে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্র্যাক একটি নতুন ধারার প্রবর্তন... বিস্তারিত...

সফল হতে প্রয়োজন অক্লান্ত পরিশ্রম-সফলতার সোনালি সন্তান আবদুস সালাম মুর্শেদী সফল হতে প্রয়োজন অক্লান্ত পরিশ্রম-সফলতার সোনালি সন্তান আবদুস সালাম মুর্শেদী খুলনার রূপসা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ এক পরিবারের সন্তান আবদুস সালাম মুর্শেদী। বাবা মো. ইসরাইল বা অন্য তিন ভাইয়ের কেউই কখনও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পরিবারের সব সদস্যই ছিলেন খেলাপাগল। আর সেই খেলার কল্যাণেই রূপসার নৈহাটি গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকায় আসেন সালাম মুর্শেদী। ঢাকায় এসে রাতারা... বিস্তারিত...

যেভাবে গড়ে উঠল রহিমআফরোজ গ্রুপ যেভাবে গড়ে উঠল রহিমআফরোজ গ্রুপ আবদুর রহিম ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে স্বল্পপরিসরে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে ভিত গড়েছিলেন রহিমআফরোজ গ্রুপের। আর ১৯৮০ সালের দিকে এসে তিনি শুরু করেন ব্যাটারি ব্যবসা। ১৯৮২ সালে আবদুর রহিম মারা গেলে ব্যবসার হাল ধরেন তিন সন্তান আফরোজ রহিম, ফিরোজ রহিম এবং নিয়াজ রহিম। বাবার রেখে যাওয়া ব্যবসার পরিসমাপ্তি না ঘ... বিস্তারিত...

সম্মাননা-অসলো জয়ের গল্প সম্মাননা-অসলো জয়ের গল্প ব্যবসা-বাণিজ্যের নোবেল পুরস্কার হিসেবে খ্যাত ‘বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করছেন লতিফুর রহমান অসলো মানেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের শহর, যেখানে কয়েক বছর আগে এক টুকরো সোনালি স্মৃতি রেখে এসেছিলেন একজন বাঙালি—ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অসলোর গ্র্যান্ড হোটেলের ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে দর্শকদের অভিনন্দন গ্র... বিস্তারিত...

সততায় সফল কিংবদন্তি উদ্যোক্তা স্কয়ার এর  স্যামসন এইচ চৌধুরী সততায় সফল কিংবদন্তি উদ্যোক্তা স্কয়ার এর স্যামসন এইচ চৌধুরী নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসা-বাণিজ্যের এক কিংবদন্তিকে হারাল দেশ। বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে ৮৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেও দেশের শিল্প-বাণিজ্যের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন তিনি। দেশের শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রে আইকন হিসেবে পরিচিত এ ব্যক্তিত্ব হলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। সততা ও আদর্শের এক উজ্জ্... বিস্তারিত...

মেইড ইন বাংলাদেশ ওয়ালটন মেইড ইন বাংলাদেশ ওয়ালটন   কয়েকজন উঠতি বয়সের ছেলে সারি সারি মোটরসাইকেল চালিয়ে বেড়াচ্ছে। মোটরসাইকেলগুলো নতুন হলেও একটু ব্যতিক্রম। প্রতিটির বাঁদিকে একটি করে প্লাস্টিকের বোতল ঝোলানো। বিষয়টি দেখে সবার কৌতুহল হওয়া স্বাভাবিক। জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, বাজারজাত করার আগে এসব বাহন আউটডোরে চালিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। মোটর... বিস্তারিত...

নিয়মের দাস হয়ে থেকো না: অধ্যাপক ইউনুস নিয়মের দাস হয়ে থেকো না: অধ্যাপক ইউনুস   তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে হয়ে গেছে ‘ওয়ান ইয়াং ওয়ার্ল্ড সামিট’। পৃথিবীর ১৭০টি দেশ থেকে এ সম্মেলনে তরুণরা অংশগ্রহণ করেছে। তরুণরাই পৃথিবী বদলে দেবে এই স্লোগানকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে হয় এ সম্মেলন। আয়োজনের অন্যতম ছিল পৃথিবীর সফল ব্যক্তিদের বক্তৃতা। শান্তিতে ন... বিস্তারিত...

আমাদের বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র(বিশেষ করে ছোট দের জন্য লেখা) আমাদের বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র(বিশেষ করে ছোট দের জন্য লেখা)   মোঃ মিন্টু হোসেন গাছেরও যে অনুভূতি আছে, তাদেরকে আঘাত করলে বা আদর করলে তারা যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, আঘাত করলে ওরাও ব্যথা পায়, সেটা প্রথম কে প্রমাণ করেছিলেন, বলো তো? আমাদের দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। তাকে সবাই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু নামেই চেনে। এমনি এমনিই কিন্তু তার নাম আচার্য হয়নি,... বিস্তারিত...

abohoman

solid

আর্কাইভ

যোগাযোগ

পাঠক সংখ্যা

163998
TodayToday748
This weekThis week5118
This monthThis month14732
Guests 3