বাঙালির সংগ্রামে-সমরে বিদেশি গণমাধ্যম

এবিএম মূসা |

বেতারে সংবাদ শুনছেন মুক্তি-সংগ্রামী শিল্পীরা: তারেক মাসুদ পরিচালিত মুক্তির গান চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য

সত্তরের নভেম্বরে ১২ তারিখ রাতে জলোচ্ছ্বাসে আর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে প্লাবিত ও বিধ্বস্ত হলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকাসব ধরনের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকার দুর্যোগের এ খবর বিশ্ববাসী ঘটনাচক্রে জানল এক সপ্তাহ পরেমূল ভূখণ্ডের জনগণ, বিশেষ করে ঢাকার গণমাধ্যম খবরটি প্রথম জানতে পারল লন্ডন থেকে বিবিসির মাধ্যমে, তাও বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডাকারেবিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের তৎকালীন প্রধান লিড বিটার সামান্য যেটুকু খবর বিশেষ সূত্র থেকে পেলেন, তা আমাকে টেলিগ্রাফ করেনদুর্যোগের বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে পাঠালেনআমি তখন ঢাকায় বিবিসির খণ্ডকালীন রিপোর্টার তথা স্ট্রিঙ্গার
ইতিমধ্যে ঢাকায়ও দক্ষিণাঞ্চলের দুর্যোগের একটু-আধটু খবর আসছিল, কিন্তু সরকারের কেউ সঠিক কিছু বলতে পারছিলেন নাআমি রওনা হলাম তৎকালীন পাকিস্তান অবজারভার-এর চিত্রগ্রাহক মোজাম্মেলকে নিয়ে, প্রথমে যাব বরিশাল, তারপর ভোলা, সম্ভব হলে আরও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোনো দ্বীপেকীভাবে বিধ্বস্ত এলাকা দিয়ে হেঁটে দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছালাম, সে এক ভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারঅতীতের এই কাহিনি উল্লেখ করার কারণঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আর সত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রচার করেই বিবিসি বাংলা বিভাগ বাঙালি জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলআমি জেনে আনন্দিত, বর্তমান সরকার স্বাধীনতার ৪০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধকালে সক্রিয় সহযোগিতা-সমর্থনের জন্য যেসব বিদেশি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেবে, বিবিসি তার মধ্যে অন্যতম
স্বাধীনতার ৪০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে সত্তরের মহাপ্লাবন তথা সাইক্লোনের খবর দেশের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী বাধা ছিল, সে কথা প্রথমে উল্লেখ করতে চাইতারপরে আসব মুক্তিযুদ্ধে বিবিসি প্রসঙ্গেবাঙালির মহাদুর্যোগে ইয়াহিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ও অমানবিক অবস্থানের সমালোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশেএ কারণে সামরিক শাসক বিধ্বস্ত এলাকার বিস্তারিত খবর সরাসরি প্রকাশ ও প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলএদিকে দক্ষিণের বিস্তীর্ণ দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় বিপর্যয়, জনদুর্ভোগ ও মৃত্যুর খবর সংগ্রহের জন্য দেশি কয়েকজন সাংবাদিক, বিশেষ করে বরিশাল, নোয়াখালী ও খুলনার স্থানীয় সংবাদদাতারা দুর্গত এলাকায় পৌঁছে গেছেনতাঁদের পাঠানো খবরে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, হাজার থেকে লাখ, শেষ পর্যন্ত মিলিয়ন তথা ১০ লাখে পৌঁছেছেএ ছাড়া ঢাকার পত্রিকায়, বিদেশি গণমাধ্যমে ইয়াহিয়া সরকারের ত্রাণ প্রদানে অবহেলার প্রবল সমালোচনা হচ্ছেবিব্রত সামরিক সরকার হুঁশিয়ারি জারি করল, মহাপ্রলয়ের ধ্বংসযজ্ঞের বিস্তারিত বিবরণ সরাসরি ছাপানো যাবে না; সরকারের নিস্পৃহতা আর ত্রাণকাজের বিফলতার বিবরণ তো নয়ইতাই ঢাকার সংবাদপত্রে বিশেষ কৌশল অবলম্বনে সংবাদ ছাপা হতোমৃতের সংখ্যা আর বিধ্বস্ত এলাকায় সরকারি ত্রাণকাজের ব্যর্থতার খবর আমি পাঠাতাম বিবিসি আর লন্ডন টাইমস-এরাতে বিবিসিতে প্রচারিত হতো সেই খবরস্থানীয় পত্রিকায় পরদিন ছাপা হতো বিবিসির বরাত দিয়ে, অ্যাকর্ডিং টু বিবিসি বলে
দেশের সংবাদপত্র আর জনগণ জানার আগে বিবিসি কীভাবে মহাপ্রলয়ের খবর পেল? পরে জেনেছি সেই বিচিত্র কাহিনিবঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে একটি ব্রিটিশ নৌবহর যাচ্ছিল আরব সাগরের ঘাঁটি দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুরএকটি ফ্রিগেট থেকে নাবিকেরা দেখল, সাগরের পানিতে অসংখ্য লাশ ভেসে আসছে উত্তর দিক থেকেব্যাপার কী তা জানার জন্য ফ্রিগেট বহর উত্তর দিকে রওনা হলোযত সামনে এগোতে থাকে ততই লাশের বহরে আটকে যাচ্ছে নৌবহরজাহাজের ক্যাপ্টেন চাঞ্চল্যকর খবরটি পাঠালেন লন্ডনের নৌ অ্যাডমিরালকেবিলেতের গণমাধ্যম সেখান থেকে প্রাথমিক খবরটি পেললন্ডন টাইমস, ডেইলি টেলিগ্রাফ, মিরর ইত্যাদি পত্রিকায় ছাপা হলো ছিটেফোঁটা খবরবিবিসি নিজেদের সূত্র থেকে পাওয়া, বিলেতি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর প্রথমে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রচার করলপরে দিনের পর দিন বিবিসিতে দুর্গত অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ও প্রেরিত আমার প্রতিবেদন বিস্তারিত প্রচার করতে থাকলবলাবাহুল্য, খবর সংগ্রহ যতখানি দুরূহ ছিল, তার চেয়ে দুষ্কর পন্থা ছিল তা ঢাকায় পৌঁছানোএ ক্ষেত্রে নোয়াখালী, ভোলা ও খুলনাসংলগ্ন এলাকায় কর্মরত বাঙালি সরকারি কর্মকর্তারা সব দেশি-বিদেশি সংবাদদাতাদের নিউজ টেলিগ্রাফ বাহকব্যবস্থা রিলে পদ্ধতিতে তথা এক স্থান থেকে অপর স্থান হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছিলেন
এরই মধ্যে বিদেশ থেকে কয়েক ডজন সাংবাদিক এবং তখনকার দিনের সীমিত কয়েকটি টেলিভিশনযথা বিবিসি-টিভি, লন্ডনের আই-টিভি, গ্রানাডা যুক্তরাষ্ট্রের এনটিসি আর এবিসিচ্যানেলের প্রতিনিধিরা ঢাকায় পৌঁছেছেনকেউ কেউ কীভাবে যেন খুলনা-বরিশালেও পৌঁছে গেছেনবিদেশে প্রচারিত হতে থাকল খবর আর সাদা-কালো ছবিসিঙ্গাপুর থেকে আমার সঙ্গে এসে যোগ দিলেন বিবিসির ব্রায়ান ব্যারন আর ব্যাংকক থেকে সানডে টাইমস-এর রবিন ম্যাকেঞ্জিদিল্লি থেকে এলেন দ্য টাইমস-এর উপমহাদেশীয় প্রতিনিধি হেজেল হ্যাস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস-এর হেনরি শেনবার্গ, ওয়াশিংটন ডেইলি নিউজ-এর হেনরি ব্র্যাডসায়ার, ডেইলি টেলিগ্রাফের সাইমন ড্রিং, আর্নল্ড জেটলিন এবং আরও অনেকেতাঁদের সবাই এর আগে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও ঢাকায় এসেছিলেনপরবর্তীকালে মুজিবনগর থেকে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের খবর পাঠিয়েছেনতাঁরা অনেকেই পঁচিশে মার্চের কালরাতে ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল বর্তমানের রূপসী বাংলা থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেনশুধু সাইমন লুকিয়ে দুই দিন থেকে গেলেন, তাঁদের দু-একজনের বিরল অভিজ্ঞতার বিবরণ ইতিমধ্যে প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে
কেউ কেউ অবাক হয়ে ভাবতে পারেন, আমার উল্লিখিত নামগুলোর মধ্যে গত শনিবার প্রথম আলোতে প্রকাশিত বিদেশি সহযোদ্ধা শীর্ষক কলামের মার্ক ট্যালি নেই কেনএই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, মার্ক ট্যালি ঊনসত্তরে, সত্তরে এমনকি একাত্তরেও ভারতে আসেননি, কিংবা রণাঙ্গনের খবর পাঠাননিউল্লিখিত কলামটিতে এম এ মোমেন লিখেছেন শরণার্থী শিবিরে মার্ক ট্যালিএই তথ্য সত্যি নয়, কারণ দিল্লিতে কর্মরত বিবিসির সংবাদদাতাকে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থায় বিরূপ ও সমালোচনামূলক খবর পাঠানোর অপরাধে কয়েক মাস আগেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বহিষ্কার করেছিলেন
যা-ই হোক, বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বেয়ারিং তথা বাকিতে টেলিগ্রাম পাঠানোর ব্যবস্থায় তখনকার দিনের একমাত্র সংবাদমাধ্যম হংকংভিত্তিক কেব্ল অ্যান্ড ওয়্যারলেসের মাধ্যমে খবর পাঠাতেনপ্রথম দিকে আমি খবর পাঠাতাম বর্তমানে আনন্দবাজার সম্পাদকতখন এশিয়ান নিউজ এজেন্সি ও সানডে টাইমস পত্রিকার স্ট্রিঙ্গার তথা খণ্ডকালীন সংবাদদাতাঅভীক সরকারের বেয়ারিং কার্ডটি ব্যবহার করেতখনকার টেলিযোগাযোগব্যবস্থায় বিদেশি সব সংবাদদাতাকে খবরের কেব্ল অ্যান্ড ওয়্যারলেস মাধ্যমটি ব্যবহার করে হংকং না হয় সিঙ্গাপুরের যোগসূত্র তথা টেলিরুট হয়ে নিজস্ব পত্রিকা বা রেডিওতে খবর পাঠাতে হতোতখন তো ফ্যাক্স, ই-মেইল অথবা মোবাইল ফোন ছিল নামোমেনের শরণার্থী শিবিরে মার্ক ট্যালি কথাটি যথাযথভাবে প্রযোজ্য নয়ট্যালি প্রথম ভারতে তথা স্বাধীন বাংলাদেশে বিবিসি প্রতিনিধি পরিচয়ে এসেছিলেন বাহাত্তরে
একাত্তরের রণাঙ্গন ও মুজিবনগর তথা কলকাতা থেকে আমার পাঠানো অথবা অন্যান্য বিদেশি পত্রিকা থেকে পাওয়া সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের খবর বিশ্লেষণ করে বিবিসিতে বাংলায় পড়ে শোনাতেন প্রধানত প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কয়েকজন বাঙালি সাংবাদিকতাঁরা ইস্টার্ন সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন, তখনো বাংলা বিভাগের আলাদা নামকরণ হয়নিবিশ্লেষকদের অগ্রগণ্য ছিলেন সিরাজুর রহমান, সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ সামসুল হক ও নুরুল ইসলামতবে প্রধান ভাষ্য ইংরেজিতে তৈরি করতেন উইলিয়াম ক্রলি আর মার্ক ট্যালিঅধিকাংশ ভাষ্যই তাই তাঁদের নামে প্রচারিত হতোতবে মার্ক ট্যালি একাত্তরের এপ্রিলে একবার অধিকৃত ঢাকায় এসেছিলেন, যে তথ্যটি এম এ মোমেন উল্লেখ করেছেনইয়াহিয়া সরকার সব কুছ কবজামে হ্যায় অর্থাৎ এক মাসেই পূর্ব পাকিস্তানে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তা বিদেশে প্রচার করার জন্য মার্ক ট্যালিসহ কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিককে ঢাকায় এনেছিলেনতাঁদের সঙ্গে আরও এসেছিলেন আমার পশ্চিম পাকিস্তানি সাংবাদিক বন্ধু টনি, অ্যান্থনি ম্যাসকানার্সটনি তখন করাচিতে সানডে টাইমস ও মর্নিং নিউজ-এর করাচি সংস্করণের বিশেষ প্রতিনিধিবিধ্বস্ত পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি দেখে বিচলিত টনি করাচি থেকে লন্ডনে পালিয়ে গেলেনপুরো প্রথম পৃষ্ঠাব্যাপী সানডে টাইমস-এ ছাপা হলো জেনোসাইড ইন পাকিস্তানসেই রিপোর্টটি বিবিসি ইস্টার্ন ও ওয়ার্ল্ড সার্ভিস পুরো ২০ মিনিট প্রচার করেছিল
প্রতিদিনের রাতের মাত্র আধঘণ্টার অনুষ্ঠানটির প্রচার সময় বিবিসি শুধু পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রচারের জন্য ১৫ মিনিট বাড়িয়ে দিলইতিপূর্বের নির্ধারিত সীমিত রাতের ১০টার প্রচারসূচির সঙ্গে প্রথমবার যোগ হলো সকাল সাড়ে সাতটার আধঘণ্টার বাংলায় নতুন সম্প্রচারবলেছি, বিবিসির বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারের কেন্দ্র ছিল লন্ডনের বুশ হাউসেতবে আমরা খবর পাঠাতাম শেফার্ড বুশে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড সার্ভিসেসেখান থেকে বাছাই করে বাংলা, উর্দু, হিন্দি, সিংহলি, ফারসি, আরবি, চীনা এবং অন্যান্য এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য বুশ হাউস থেকে ইস্টার্ন সার্ভিসের অনুষ্ঠানে প্রচারের জন্য পাঠানো হতোস্বাভাবিকভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানিদের অনেকেই বিবিসির মাধ্যমেই জানতে পেরেছিলেন ঢাকার কালরাতের ও গণহত্যার এবং মুক্তিযুদ্ধের খবরআমার পশ্চিম পাকিস্তানি সাংবাদিক বন্ধুদের অনেকেইনকভি, আবদুল্লাহ মালিক, আই এ রহমান সামরিক শাসনের নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করে একটু-আধটু প্রতিবাদী সংবাদ নিজস্ব পদ্ধতিতে দু-একটি উর্দু দৈনিকে আর সাময়িকীতে প্রচার করেছিলেনএই অপরাধে পাকিস্তান টাইমস-এ কর্মরত আবদুল্লাহ মালিককে জেল খাটতে এবং বেত্রাঘাতের শাস্তি পেতে হয়েছিলপরে শুনেছি, রেডিও পাকিস্তান বিশেষ কায়দায় বিবিসির প্রচার জ্যামিং তথা হিজিবিজি করার বিশেষ একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলযে কারণে একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটছে তা সব জানা সম্ভব হয়নি
একাত্তরে এপ্রিলে আমার ঢাকা ত্যাগের পর অবরুদ্ধ দেশ থেকে বিবিসিতে খবর পাঠাতেন আমার অনুজ সাংবাদিক নিজামউদ্দিন অনেক ঝুঁকি নিয়ে, পাকিস্তানিদের হুমকি উপেক্ষা করেএ কারণে ১২ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যায়একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর অন্যান্য শহীদ সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীর মাঝে রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে তাঁর লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়নিশহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে নিজামউদ্দিন ও অন্য শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক

Share/Save/Bookmark

উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে শাহবাগ আন্দোলন উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে শাহবাগ আন্দোলন অনলাইনে সার্চ দিলেই আন্দোলনের সব খবর ।এবার শাহবাগ আন্দোলন উইকিপিডিয়া ও গিনেস বুকে স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ায় শাহবাগ ‘প্রোটেস্ট’ নামে রয়েছে। যে কেউ শাহবাগ আন্দোলনের সব খবর বিশ্ব তথ্যকোষ উইকিপিয়াতে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে কোন দেশেই টানা ২১ দিন এ রকম আন্দোলন হয়নি। এ কা... বিস্তারিত...

শাহবাগের গণজাগরণ নিয়ে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এর ইতিবাচক প্রতিবেদন শাহবাগের গণজাগরণ নিয়ে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এর ইতিবাচক প্রতিবেদন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে চলমান গণজাগরণ নিয়ে এবার একটি ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এর নতুন সংখ্যায় (১৬ ফেব্রুয়ারি)। ‘বাংলাদেশ: গণঅসন্তোষ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: বিগত দুই দশকের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শ্... বিস্তারিত...

শাহবাগ আন্দোলনের প্রশংসা গার্ডিয়ানে শাহবাগ আন্দোলনের প্রশংসা গার্ডিয়ানে শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের প্রশংসা এবার প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের। গতকাল রোববার 'দি অ্যাগোনিজ অব বাংলাদেশ কাম টু লন্ডন' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আন্দোলনের প্রশংসা করে এটাকে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ বলে উল্লেখ করা হয়। শাহবাগ আন্দোলন ও লন্ডনে এর প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদনটি লিখে... বিস্তারিত...

আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বাংলাদেশ-ইকোনমিস্টে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বাংলাদেশ-ইকোনমিস্টে ইকোনমিস্টের দৃষ্টিতে- পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন ও সাবমেরিন ক্রয় বড় পদক্ষেপ বিদ্যুত ঘাটতি মোকাবেলায় পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন সরকারের একটি শুভ উদ্যোগ। তবে ঋণ বাতিলের পর পদ্মা সেতু নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তা পদ্মা ও যমুনার ওপারের তিন কোটি মানুষের জন্য বেদনাদায়ক ঘটনা। যুক্ত... বিস্তারিত...

বিবিসির প্রতিবেদন-কক্সবাজার সৈকত হতে পারে থাইল্যান্ডের পাতায়া বিবিসির প্রতিবেদন-কক্সবাজার সৈকত হতে পারে থাইল্যান্ডের পাতায়া প্রাচীন সৈকত, সারিবদ্ধ নারিকেল গাছ, সূর্যের ঝলমলে আলো আর গ্রীষ্মকালীন জলবায়ু—কি নেই কক্সবাজারে? একটি আদর্শ অবকাশযাপন কেন্দ্রে যা যা থাকা দরকার, তার সবই আছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এ সৈকতে। ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি সৈকত নিয়ে কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সৈকত। এই দীর্ঘ সৈকতের অনে... বিস্তারিত...

তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ এখন পাওয়ার হাউস তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ এখন পাওয়ার হাউস ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বসেরা বিক্রেতারা ঢাকায় স্থাপন করেছে ‘উৎস অফিস’ বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ এখন ‘পাওয়ার হাউসে’ পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে এ দেশটি এখন চীনের পরেই, দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ফলে বিশ্বের নামীদামী সব খুচরা বিক্রেতা তাদের পোশাকের উৎস হিসেবে বাংলাদেশে... বিস্তারিত...

নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশি নারী গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রশংসা নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশি নারী গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রশংসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের পারদর্শিতার প্রশংসা করেছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস। স্বল্প মজুরি সত্ত্বেও তাদের চমত্কার সার্ভিসে বর্তমান বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানির বাজারে ভারতকে হটিয়ে দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্ক থেকে এনা জানায়, গতকাল বাংলাদেশের গার্ম... বিস্তারিত...

বিশ্বে সবচেয়ে শারীরিকভাবে সক্রিয় বাংলাদেশীরা বিশ্বে সবচেয়ে শারীরিকভাবে সক্রিয় বাংলাদেশীরা বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান গবেষণা সাময়িকী ল্যানসেটের সর্বসাম্প্রতিক গবেষণামতে, বিশ্বের যে কোনো দেশের মানুষের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ শারীরিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয়। আর শারীরিক সক্রিয়তায় সবচে পিছিয়ে আছে ইউরোপের দেশ মাল্টা। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সংখ্যায় ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য’ বিভাগে এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতি... বিস্তারিত...

টাইমের চোখে ‘হিরো’ রিজওয়ানা টাইমের চোখে ‘হিরো’ রিজওয়ানা পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পেশায় পরিবেশ আইনবিদ। পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখায় বিশ্বখ্যাত টাইম সাময়িকী তাঁকে দিয়েছে ‘হিরোজ অব এনভায়রনমেন্ট’ খেতাব। এই পুরস্কার পাওয়ার পর রিজওয়ানা হাসানের কিছু শত্রু সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাঁর হাড়গোড় গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয... বিস্তারিত...

কক্সবাযার- দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় এক পর্যটন কেন্দ্র-নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে কক্সবাযার- দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় এক পর্যটন কেন্দ্র-নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে   লেখক: অলক বিশ্বাস বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের শহর কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গড়ে উঠছে অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট। বিলাসবহুল হোটেলের পাশাপাশি প্রয়োজন সমুদ্র সৈকতে আকর্ষণীয় অবকাশ যাপন কেন্দ্র। এটা করতে পারলে বাংলাদেশ এশীয়দের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রধান স্থান হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। এসব দিক বি... বিস্তারিত...

জাপানের প্রখ্যাত দৈনিক পত্রিকা ‘দি মাইনিচি ডেইলি নিউজ’এ বাংলাদেশের ভারী শিল্পের অগ্রগতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা জাপানের প্রখ্যাত দৈনিক পত্রিকা ‘দি মাইনিচি ডেইলি নিউজ’এ বাংলাদেশের ভারী শিল্পের অগ্রগতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। ১০ মার্চ পত্রিকাটিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে ভারী শিল্পায়নের ব্যাপক প্রসার হচ্ছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে মুগ্ধ হয়ে বর্তমানে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই এদেশ... বিস্তারিত...

সংবাদপত্রে ১৯৭১ সংবাদপত্রে ১৯৭১ শেরিফ আল সায়ার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম ভুটানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখাটি শুরু করতে চাই। একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে সবার আগে স্বীকৃতি দেয় হিমালয় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্র ভুটান। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের এক কোণায় খুব ছোট্ট একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল ‘ভুটান কর্তৃক বাংলাদে... বিস্তারিত...

বাঙালির সংগ্রামে-সমরে বিদেশি গণমাধ্যম বাঙালির সংগ্রামে-সমরে বিদেশি গণমাধ্যম এবিএম মূসা | বেতারে সংবাদ শুনছেন মুক্তি-সংগ্রামী শিল্পীরা: তারেক মাসুদ পরিচালিত ‘মুক্তির গান’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য সত্তরের নভেম্বরে ১২ তারিখ রাতে জলোচ্ছ্বাসে আর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে প্লাবিত ও বিধ্বস্ত হলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা। সব ধরনের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এ... বিস্তারিত...

বিদেশি পএিকায় বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ বিদেশি পএিকায় বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ আশাবাদী, তবে ভয়ও পিছু ছাড়ছে না হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক একসময় বাংলাদেশ বলতেই বোঝাত তিন দ—দারিদ্র্য, দুর্যোগ ও দুর্নীতি। ক্রমেই বাংলাদেশের সেই ইমেজ বদলাচ্ছে। কথাটা বোঝানোর জন্য ২০ বছর আগের একটি ঘটনার কথা বলি। তখন আমি সদ্য আমেরিকায়, দেশটাকে ঠিকমতো বোঝাও হয়ে ওঠেনি। একদি... বিস্তারিত...

abohoman

solid

আর্কাইভ

যোগাযোগ

পাঠক সংখ্যা

165218
TodayToday67
This weekThis week67
This monthThis month15952
Guests 29