রাকিব মোজাহিদ
বিজয়ী দলের সদস্য আজিজুল হক, উজ্জ্বল সরকার, রিতু বেগম, জাবির আবদুল্লাহ, শিপন চন্দ্র বর্মণ
চোখ দুটো বন্ধ করুন এবং ভাবুন দুটি বিষয়—পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা। নিশ্চয়ই আপনার চিন্তার জগতে ভেসে উঠছে ঘাতক কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, যা কিনা পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতার মূল খলনায়ক। এই খলনায়ক কার্বন ডাই-অক্সাইডকে ‘নায়কে’ রূপান্তর করার এক পরিকল্পনা ফেঁদেছেন পাঁচ তরুণ; তৈরি করেছেন একটি শোধন প্ল্যান্ট, যার কল্যাণে জিতে নিয়েছেন ব্রিটিশ কাউন্সিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের যৌথ আয়োজনে দেওয়া এন্টারপ্রাইজ চ্যালেঞ্জ পুরস্কার-২০১১।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ২০০টি দলের মধ্যে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দলটি ছিনিয়ে নিয়েছে সেরা পুরস্কার। আসুন, তাঁদের কাছে জেনে নিই কীভাবে বন্ধু হতে পারে এই নীরব ঘাতক গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড।
শুরু করলেন উজ্জ্বল সরকার, ‘আমাদের চারপাশে প্রচুর ইটভাটা। যেগুলো প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়ে। আমরা এমন একটি ফিল্টার তৈরি করতে যাচ্ছি, যেটি চুল্লি থেকে বের হওয়া কার্বনের শতকরা ৪৫-৫০ ভাগ শুষে নেবে...।’ যোগ করেন আজিজুল হক, ‘অ্যালুমিনিয়াম ও কপারের তৈরি এই ফিল্টারটি ইটভাটার চিমনির মুখে বসিয়ে দিয়ে আমরা প্রতি ১০-১৫ দিনে পাব পাঁচ থেকে সাত কেজি কার্বন।’ কী হবে এই কার্বন দিয়ে? প্রশ্ন শুনে অনেকটাই বিস্মিত জাবির আবদুল্লাহ। বললেন, ‘এই কার্বনের প্রচুর চাহিদা বাজারে। পেনসিলের শিষ এবং ড্রাইসেল ব্যাটারি তৈরিতে এই কার্বন কাজে লাগবে।’
প্রতিযোগিতার আদি প্রান্তে ফিরে যাই শিপন চন্দ্র বর্মণের কথা ধরেই, ‘আমরা কিন্তু নিজেরা পরিকল্পনা করে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিইনি। এমনকি কেউ কাউকে চিনতামও না। কলেজ থেকে যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চেয়েছিল তাদের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে এই দল গঠন করে দিয়েছেন শিক্ষকেরা। এরপর শুরু হলো আইডিয়ার খোঁজ।’
তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ ছিল তাঁদের। একটি বেকারত্ব এবং অপর দুটি হলো রিসাইক্লিং ও পরিবেশ দূষণ। শেষ দুটি বিষয় মিলে তাঁরা তৈরি করলেন তাঁদের প্রথম প্রকল্প। নাম জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও রিসাইক্লিং।
দলের আরেক সদস্য রিতু বেগম বলেন, ‘৩ ডিসেম্বর প্রথম প্রকল্পে আমরা দেখিয়েছিলাম, কীভাবে আবর্জনা থেকে সার, প্লাস্টিক-সামগ্রী ও খেলনা তৈরি করা যায়। আর প্রকল্পটা মনে ধরেছিল বলেই বিচারকেরা সুযোগ করে দিলেন চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার।’
সঙ্গে যুক্ত করলেন জাবির আবদুল্লাহ, ‘এই চূড়ান্ত পর্বে প্রকল্প তৈরিতে সাহায্য করেছেন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় ভাই তরুণ বিজ্ঞানী শাহাবুদ্দিন সামি।’
পুরস্কার জেতাটা এখনো সুখের বিষয় হয়ে ওঠেনি। কেননা চূড়ান্ত সাফল্য তখনই মিলবে যখন তাঁরা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে দেখাতে পারবেন। রিতু বেগম বলেন, ‘আমরা পাইলট প্রকল্প তৈরিতে হাত দেব দ্রুতই। আমাদের মূল লক্ষ্য বিদেশে চূড়ান্ত পর্বে পুরস্কার জেতা।’
এ বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী দলনেতা উজ্জ্বল সরকার, ‘গতবার এই চূড়ান্ত পুরস্কার জিতেছিল নেপাল। এবার আমরা অবশ্যই এই পুরস্কার জয় করে নিতে পারব।’
স্বপ্নপূরণে প্রকল্পের কাজ কত দূর এগোল? এমন প্রশ্নে আজিজুল হক বলেন, ‘আমাদের অধ্যক্ষ সাহায্য করছেন। আশা করছি, দ্রুতই এগিয়ে নিতে পারব।’ এ বিষয়ে কথা হলো ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং দলের গ্রুমার সুমা ভৌমিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নেওয়ার কাজ এগিয়ে চলেছে। অনুমোদন পেয়ে গেলেই পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে।’








