ঢাকা: ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বজলুর রশিদকে ব্রিটেনের অন্যতম রাজকীয় উপাধি ‘এমবিই’ মনোনীত করা হয়েছে।
নতুন বছর উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শ মতো রাজপরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
লন্ডনের ব্রিকলেন প্রবাসী একজন বাংলাদেশি শনিবার বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান।
ব্রিটেনে নিউইয়ার উপলক্ষ্যে এ বছর রাজকীয় সম্মানজনক উপাধিপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনকে নাইট, দুইজনকে সিবিই, ১০ জনকে ওবিই ও চারজনকে এমবিই উপাধি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশি বংশদ্ভূত বজলুর রশিদ একজন ব্রিটিশ নাগরিক। ১৯৮৭ সালে তিনি লন্ডনে একটি রেস্টুরেন্ট খোলেন। এখন কেন্ট ও লন্ডনে তার রেস্টুরেন্টের বেশ কয়েকটি শাখা রয়েছে।
ব্রিটেনের বাংলাদেশি ক্যাটারারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বজলুর রশিদ।
১৯১৭ সালে প্রথমবারের মতো অর্ডার অব মেরিট উপাধি প্রচলন করা হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যর প্রতি আনুগত্য ও আস্থা এবং ব্রিটেনের জন্য সম্মান বয়ে আনার মতো কার করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের এ ধরনের ৫টি উপাধি দেওয়া হয়।
ব্রিটেনে রাজকীয় এ উপাধিগুলোকে সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়। তবে এ উপাধি নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং কেউ কেউ এ উপাধিতে মনোনীত হয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সর্বশেষ ২০০৩ সালে জ্যামাইকার বংশদ্ভুক ব্রিটিশ কবি বেনজামিন জেপহানিয়া ওবিই উপাধিতে মনোনীত হয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে কবি বেনজামিন বলেন, ‘ব্রিটেনের এ ধরনের উপাধি আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, কিভাবে আমার পরদাদীরা ব্রিটিশদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলেন এবং আমার পরদাদা ব্রিটিশদের পাশবিকতার শিকার হতেন।’
বিটলস খ্যাত জন লেননকে এমবিই উপাধি দেওয়া হয় ১৯৬৯ সালে। তবে তিনি এ উপাধি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
লেনন বলেন, ‘এসব উপাধি দেওয়া হয় যুদ্ধে মানুষ হত্যা করার বীরত্ব হিসেবে, কিন্তু আমরা তো গান গেয়ে মানুষকে বিনোদন দেই। আমি এ উপাধি গ্রহণ করতে পারবো না।’
তবে সাম্প্রতিককালে, রাজকীয় এসব উপাধি সাধারণত সরকারি ও সামরিক আমলাদের বেশি দেওয়া হচ্ছে। যদিও বেসরকারি পর্যায়ে সমাজসেবা বা দাতব্য কাজ করছেন এমন অনেককেই এসব উপাধি দেওয়া হচ্ছে।








