প্রযুক্তি মেলায় একটি স্টলে সৌরশক্তির পণ্য দেখানো হচ্ছে
রিকশায় ইঞ্জিন আছে কিন্তু বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি খরচ নেই। জ্বালানি জোগাবে সৌরবিদ্যুতের একটি ছোট্ট প্যানেল। সাধারণ রিকশার চেয়ে গতি প্রায় দ্বিগুণ। যাত্রীদের বসার আসনটা আরামদায়ক ও একটু বড়সড়। একসঙ্গে তিনজন বসতে পারেন অনায়াসে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত প্রকৌশলপণ্য মেলায় ঢুকতেই পরিবেশবান্ধব এই ‘সোলার রিকশা’ চোখে পড়বে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে রিকশাটি তৈরি করেছে বিভাটেক লিমিটেড। আর সেটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল সংযুক্ত করে বাজারজাত করছে ইলেকট্রোকম টেকনোলজি লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, অনেকটা প্যাডেল ছাড়াই চলবে এই রিকশা। একবার চার্জ করতে সময় লাগবে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। এতে টানা সাত ঘণ্টা যানটি চালবে। ঘণ্টায় এর গতিবেগ হবে প্রায় ২৫ কিলোমিটার। প্রতিটি রিকশার দাম পড়বে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে সোলার প্যানেল ছাড়া রিকশার দাম ৬০ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে চার্জ দেওয়ার জন্য ৪৫ হাজার টাকায় ৪০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্যানেল কিনতে হবে।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের একটি অংশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই সোলার রিকশা। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী রিকশা ক্রয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ইসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান ইসলাম বলেন, ‘মেলার দুই দিনেই ১২০টি রিকশা সরবরাহ করার বুকিং পেয়েছি। এ ছাড়া আরও অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে।’
আহসান ইসলাম আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠেছে। কারণ এগুলো বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়। লোডশেডিংয়ের এই সময়ে যা কিনা ভয়াবহ ব্যাপার। কিন্তু এই দিক থেকে সোলার রিকশা ভালো সমাধান হবে। মেলা উপলক্ষে পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রকৌশলপণ্য ও প্রযুক্তি মেলা (বাইয়েট-২০১২) গত বৃহস্পতিবার পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে চলছে সৌরশক্তি পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।
মেলা দুটি যৌথভাবে আয়োজন করছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বাইশিমাস) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল। এতে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের ১৩০টি স্টল আছে। এর মধ্যে ভারত ও চীনের আছে ৩০টি স্টল।
গত শুক্রবার বৃষ্টির কারণে সকালে দর্শক সমাগম একটু কম হয়। আর গতকাল শনিবার সকালে বৃষ্টির পর দুপুর থেকেই দর্শনার্থীর ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে এসেছেন। তাঁরা বিভিন্ন স্টলে পণ্য ও প্রযুক্তির খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের স্টলেই বেশি ভিড় দেখা গেছে।
১৯৯০ সাল থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষি-যন্ত্রপাতি তৈরি এবং কিছু আমদানি করে বাজারজাত করছে সিলেটের আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এবারের মেলায় প্রতিষ্ঠানটি পাওয়ার টিলার, ভেনটিলেটিং ড্রায়ার, ভুট্টা মাড়াইকল, শস্য ঝাড়াই যন্ত্র, সমন্বিত হারভেস্টার, লনেফং পাওয়ার টিলার, ডিজেল ইঞ্জিন, হ্যান্ড স্প্রেসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছে।
মেলায় প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাচ্ছেন—উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির বিপণন ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে আমরা ক্রেতাদের নির্ধারিত স্থানে পণ্যসামগ্রী বিনা মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছি।’
দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের স্প্রেয়ার যন্ত্র তৈরি করে গৌরব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কৃষিকাজের ব্যবহারোপযোগী বিভিন্ন কীটনাশক আমদানি করে বাজারজাত করে। মেলায় ফগার, মিনি ফগার, টারবাইন, নিড়ানি যন্ত্র, আগাছানাশক যন্ত্র, ধানের বীজ বপন যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রদর্শন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এলইডি বাল্ব, টিউব, টেবিল ফ্যান, ড্রিমপট, ফুড ওয়ারমার ইত্যাদি পণ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে গোল্ডেন সন লিমিটেড। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলসহ বিভিন্ন ধরনের বাল্ব নিয়ে এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম বলেন, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হলেও সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে আমরা সোলার পণ্য নিয়ে এসেছি। মেলায় ভালো সাড়াও পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি এলইডি টিউব লাইটের কার্যাদেশ পেয়েছি।
বাইশিমাসের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাওয়া গেছে। মেলায় অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।’








