চট্টগ্রাম থেকে বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব পেয়েছে সরকার। সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৭৯২ কোটি টাকার রাজস্ব এসেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চার করাঞ্চল থেকে আদায় হয়েছে চার হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। আর বন্দর থেকে রাজস্ব পাওয়া গেছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরের) তিনটি প্রধান কার্যালয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। এ ছাড়া বন্ড কমিশনারেটর অফিস, বিনিয়োগ বোর্ড ও জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি দফতর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পেয়েছে সরকার। এর আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি-রফতানির গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব এবার দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর আগের অর্থবছরেও এ বন্দরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। এবারের হিসাব এখনও চূড়ান্ত না হলেও গত অর্থবছরের চেয়ে এবারে বেশি রাজস্ব আসবে বলে মন্তব্য করেন বন্দর সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ।
চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আনা নেওয়ার সঙ্গে রাজস্ব প্রাপ্তি ওঠানামা করে। একইভাবে এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মাহমুদুল হাসান বলেন, সর্বশেষ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯২ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। এককভাবে এটি যে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ। কাস্টম হাউস প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়।'
জানা গেছে, ২২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর ১৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ২০ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। কাস্টম কমিশনার ড. মারুফুল ইসলাম বলেন, 'আমদানি-রফতানি বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় কমলেও সম্মিলিত টিমওয়ার্ক ও কঠোর নজরদারির কারণে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে সমর্থ হয়েছি আমরা।'
রাজস্ব আদায়ে গত বছরের মতো এবারও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে করাঞ্চলগুলো। গত বছর চট্টগ্রামে তিনটি করাঞ্চল থাকলেও এবার তা ভেঙে চারটি করা হয়েছে। এসব অঞ্চল থেকে চার হাজার ৫৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।








